এক সময় সূর্যগ্রহণ হবে না
  • picture

একটা সময় আসবে, যখন পৃথিবী থেকে আর দেখা যাবে না সূর্যগ্রহণ। না, পূর্ণগ্রাস, খণ্ডগ্রাস, বলয় গ্রাস বা সংকর গ্রাস, কোনোটাই নয়। চাঁদ দিয়ে আর সূর্যের মুখ ঢাকা দেওয়া সম্ভব হবে না। মুখ লুকোতে পারবে না চাঁদও। সেদিন কোনো গ্রহণকেই আর ‘গ্রহণ’ করা সম্ভব হবে না পৃথিবীর! আরও একটি মজার তথ্য হচ্ছে-চাঁদ অনেক দূরে চলে যাওয়ার ফলে আজ থেকে ৬৫ কোটি বছর পর দিন হবে ২৭ ঘণ্টার! বিজ্ঞানীরা এমনটিই দাবি করেছেন। খবর আনন্দবাজারের।

চাঁদ যে আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে দূরে। বছরে হাতের নখ যতটা বাড়ে, ফি বছর আমাদের ছেড়ে ততটাই দূরে চলে যাচ্ছে চাঁদ। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে সূর্যের আরও কাছাকাছি। চাঁদ আছে বলেই তো যাবতীয় গ্রহণের আলো-আঁধারি। তাই সূর্য আর চন্দ্রগ্রহণ, যা নিয়ে আমাদের এত মাতামাতি, ৬৫ কোটি বছর পর পৃথিবী থেকে আর সেসব কিছুই দেখা যাবে না।

তার ফলে, পৃথিবী যে লাঠিমের মতো নিজের চারদিকে ঘুরছে, তার ওপর চাঁদের ‘খবরদারি’ কমে যাবে। কমে যাবে পৃথিবীর গতি। আমাদের দিন আরও বড় হয়ে যাবে ২৪ ঘণ্টার চেয়ে। চাঁদ অনেক অনেক দূরে চলে যাওয়ার ফলে আজ থেকে ৬৫ কোটি বছর পর দিন হবে ২৭ ঘণ্টার! এখনকার চেয়ে ৩ ঘণ্টা বেশি। বছরে দিনের সংখ্যাও আর ৩৬৫ থাকবে না। তা কমে যাবে অনেকটাই।

জোয়ার-ভাটার জোরও যাবে কমে। রাত ঢেকে যাবে আরও ঘুটঘুটে অন্ধকারে। এগিয়ে যেতে যেতে এক দিন সূর্যের ভয়ঙ্কর গ্রাসে চলে যাবে আমাদের আদরের চাঁদ। স্বপ্নের চাঁদ। যেন ৪০০ কোটি বছর ধরে তার মুখ ঢাকার ‘বেয়াদবি’র বদলা নেবে আমাদের নক্ষত্রমণ্ডলের ‘রাজা’- সূর্য। চাঁদকে গিলে নিয়ে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা হিসাব কষে দেখেছেন, সাড়ে ৪০০ কোটি বছর আগে জন্ম হয়েছিল পৃথিবীর। আর তার একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের জন্ম আরও ৫০ কোটি বছর পর। আজ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে। সে সময় চাঁদ অনেক বেশি কাছাকাছি ছিল পৃথিবীর। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ছিল তখন মাত্র সাড়ে ২২ হাজার কিলোমিটার বা ১৪ হাজার মাইল। একেবারে আমাদের নাগালের মধ্যেই! পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুর দূরত্ব ১২ হাজার ৪৩০ মাইল। তার চেয়ে মাত্র দেড় হাজার মাইল দূরে ছিল চাঁদ, তার জন্মের সময়ে। আর আজ, সরতে সরতে সেই চাঁদ চলে গেছে পৃথিবী থেকে ৪ লাখ ২ হাজার ৩৩৬ কিলোমিটার বা আড়াই লাখ মাইল দূরে। প্রায় ১৮ গুণ বেশি দূরত্বে।