ছেলের দেহে বাবার লিভার
  • picture

বাবা জিয়াউল হকের লিভারের অংশ নিয়ে আপাতত স্থিতিশীলই আছেন মুকসুদুল হক। শুক্রবারই এসএসকেএম হাসপাতালে বাবার লিভার তাঁর শরীরে প্রতিস্থাপিত হয়।

শনিবার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের বাসিন্দা বাবা ও ছেলে আপাতত স্থিতিশীল।

গত দেড় বছরে অন্তত দু’টি লিভার প্রতিস্থাপনের চেষ্টা হয়েছে এবং দু’টি প্রয়াসই বিফলে গেছে। অবশ্য দু’টি ক্ষেত্রেই প্রতিস্থাপনের চেষ্টা হয়েছিল মরণোত্তর অঙ্গদানের মাধ্যমে যা আরও জটিল প্রক্রিয়া বলে মনে করেন চিকিত্সকেরা। এ ক্ষেত্রে যদিও ৫১ বছর বয়সী জীবিত বাবার অঙ্গ পেয়েছে ২৬ বছরের ছেলে। ঠিক যেমনটা ঘটেছিল আট বছর আগে এসএসকেএমেই। বাবার লিভারের অংশ পেয়ে নবজীবন পেয়েছিল সাত বছরের রওশন আলি। সেও মুকসুদুলের মতো সিরোসিস অফ লিভারের রোগী ছিল। ২০১৫ সালেও সোনারপুরের বাসিন্দা এক মহিলা তাঁর স্বামীকে লিভারের অংশ দিয়ে বাঁচিয়ে তুলেছিলেন।

এত কিছুর পরও অবশ্য এসএসকেএমের চিকিত্সকেরা ঝুঁকি নিতে চাননি। কেন না সাম্প্রতিক অতীতে ব্যর্থ চেষ্টার নজির রয়েছে লিভার প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে। তাই স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশে অতিরিক্ত একটি জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয় অস্ত্রোপচার চলাকালীন। সরকারি পরিষেবার যে সব খুঁটিনাটি বিষয় সাধারণত উপেক্ষা করা হয়, সে সবও রীতিমতো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্তারা সর্বক্ষণ উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালেই। সংবাদ মাধ্যমের কাছে প্রতিস্থাপনের কথা গোপন রাখা হয়। এবং সর্বোপরি অল্প সময়ের নোটিসে দিল্লি থেকে উড়িয়ে আনা হয় দেশের ব্যস্ততম ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন তথা এসএসকেএমের অতিথি অধ্যাপক সুভাষ গুন্তাকে। তাঁর সাহায্য নিয়েই বরাবরের মতো এ বারও এসএসকেএমের লিভার রোগ বিভাগের প্রধান অভিজিত চৌধুরীর নেতৃত্বে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার ভোররাত পর্যন্ত চলে প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার।

এদিকে সফল অপারেশনের পর স্বাভাবিক ভাবেই খুশি মুকসুদুলের পরিবার। তাঁর শ্যালক হাসান আলি বলেন , ‘আপাতত দু’জনই সুস্থ আছেন, সেটাই সবচেয়ে বড় কথা। অভিজিত চৌধুরীর কাছে আমরা চিরকৃতজ্ঞ থাকব।